জীবনের শেষ প্রান্তে মৃত্যুর অত্যন্ত সন্নিকটে দাঁড়িয়ে আজ আমি জীবন নিয়ে কিছু সত্য কথা লিখে যেতে চাই। বাল্যকাল থেকে অত্যন্ত সততা ভদ্রতা ভীরুতা নিয়ে জীবন পরিচালনা করে আসছিলাম। ছোট খাট নানান রকমের চিত্র বিচিত্র ঘটনা ঘটে থাকলেও জীবন কে কলুষিত করার মতো ঘটনা ঘটে আমার চল্লিশের কোঠায় এসে। একদিন আমরা ছাদে থেকে নামার সময় একটি মেয়ের সাথে আমার ছোট শিশু মেয়ের কথা বলার আগ্রহ বুঝতে পেরে আমি কথা বলার ভয় ভেঙ্গে দিয়ে বলে দিই 'তোমার আপু হয়।' ভেবেছিলাম শিশুটা একটু রিফ্রেশ হবে। আমি আমার বউকে একান্ত কিছু মূহূর্ত উপহার দিতে পারব। কারণ বাচ্চা কাচ্চা হওয়ার পর স্বামী স্ত্রীর অনেক সুন্দর মূহুর্ত বিসর্জন দিতে হয় পরিবেশের অভাবে। এমনি করে চলছিল বেশকিছু দিন। কিন্তু আমি ছোট বেলা থেকেই কারো কাছে ঋণী থাকতে পছন্দ করি না। তাই আমার ছোট মেয়েটি যেহেতু ছাদের চিলেকোঠায় থাকা মেয়েটার সাথে কিছুটা সময় কাটাতো। তাঁর প্রতিদান স্বরূপ তাকে কিছু আপ্যায়ন করতে বলি। আমার ফ্যামিলি অত্যন্ত ভদ্র নিখুঁত সরল সোজা দ্বীনদার একজন মানুষ। মানুষ হিসেবে তার কোন ঘাটতি আমার চোখে ছিল না আমার হৃদয় মনের চাওয়া সবই সে বুঝতে পারতো। সেও সরল মনে মেয়েটাকে যতটুকু সম্ভব খাবার খাওয়ার জন্য চেষ্টা করত। এমন ও বলতে শুনেছি যে অনেক সময় তার সহ রান্না করেছে । একটা পুরুষ একটা মেয়ের দিকে তাকায় এটি অস্বাভাবিক কিছু নয়, আমি তাকালাম। তখন রমজান মাস ছিল কাউকে খাওয়াতে পারলে আমার ও ভালো লাগতো। আমি তার খাবার খাওয়া দেখে মনে হয়েছিল সে খুব অভাবি। অর্থ অভাবে হয়তো ঠিক মতো খেতে পারে না। আমার ধারণা ভুল ও হতে পারে তবে আমার মনে হতো তাকে খেতে দেওয়া দরকার। কিন্তু পুরুষ মানুষ হয়ে অন্য মেয়ের এতো টেক কেয়ার করা খারাপ লক্ষন হিসেবে ধরা হয়। তাই আমি যতটুকু শালীনতা বজায় রেখে যত্নবান হওয়া যায় ততটুকুতেই সীমাবদ্ধ ছিলাম। চলতে থাকে কিছু দিন। একদিন আমার ফ্যামিলি ছুটিতে বাড়ি চলে যায়। যাওয়ার সময় আমাকে সাবধান করে যায় যেন উপরে না তাকাই। তখনও আমি ছিলাম নিষ্পাপ বাজে ধরনের কোনো চিন্তা আমার মাথায় আসেনি। দিন যেতে লাগল আমি অফিস শেষে অবসর সময়ে মোবাইল টিপতেই বেশি পছন্দ করি। দুএকদিন পর হঠাৎ দরজার নক করেলে খুলে দেখি ঐ মেয়ে টি আমার ছোট মেয়েটির কথা জিজ্ঞেস করল আমি বললাম ওরা বাড়ি গেছে বলল ও এতো তাড়াতাড়ি চলে গেছে, ঠিক আছে। বলে চলে গেল। কিন্তু আমার কেন জানি মনে হলো সে হয়তো কিছু খাবার আশা করে এসেছিল। ঠিক তখনই আমার কেমন যেন লাগলো মায়া হলো যদি তাকে কিছু খাওয়াতে পারতাম। কিসের জন্য আমার এরকম মনে হয়েছিল আমি জানি না, ছোট বেলায় থেকে বাবা শুধু মানুষকে খাওয়ানোর আমাদের হোটেল বয় এর মতো ব্যবহার করতো, আমি রোগ শোক লাজুক দূর্বল আবেগী চিত্তের মানুষ। হতে এসব কারণে অথবা পুরুষের নামের যে ভাল্লুকত্তটা প্রতিটি পুরুষের মাঝে থাকে তার কোন প্রভাবে। কিন্তু বলে রাখা সুন্দরের প্রতি পুরুষের যে আকর্ষণ বা ক্রাশ এরকম কোন কিছু মেয়ের মধ্যে ছিল না। যার কারণে আমি সন্দিহান এ মায়া আসলে কিসের জন্য তৈরি হলো। এমনি করে চলে গেল কিছু দিন। মাঝে হঠাৎ একদিন তার ছোট ভাই কে পাঠিয়ে ছিল মোবাইল চার্জ দিতে। দিনটা ছিল শুক্রবার যে কারনে আমি বাসায় ছিলাম। আমি অনেক সময় কৌতুহল নিয়ে মানুষ কে জানার চেষ্টা করি। সেদিন ও তার ভাইকে ফ্রি করে দিয়ে কথা বলার চেষ্টা করি। তার নাম ঠিকানা তোমার আপু কোথায় চাকরি করে তোমার দুলাভাই কি করে। এরকম গল্প শেষে তাকে খাবার অফার করি সে না খেয়ে নিয়ে যেতে চায়। আমি বাধা দেই নি। সেদিন তার মোবাইল নাম্বার টি কি যেন ভেবে নিয়েছিলাম যা পরবর্তী জীবনে আমার কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আসলে নম্বর টা তার বোনের কারন ফোনটা ও তার ছিল।
একদিন একটা ফোন করে বলে আপনি যদি বাইরে থেকে থাকেন তাহলে আসার সময় একটা সুই নিয়ে আসবেন প্লিজ। সেই থেকে কেমন যেন অনুভূতি তৈরি হতে শুরু করে। আমি মনে করে সুচ নিয়ে যাই তার ভাই এসে নিয়ে যায়। এভাবে চলতে থাকে তার কিছু দরকার হলেই আমাকে বলতো আমি এনে দিতাম। আমি কখনো তার রুমে যাইনি কারণ আমার ভালবাসা আমার আত্মা আমাকে সাবধান করে গিয়েছিল।
অনেক সময় হাই হ্যালো চ্যাটিং হতো একে অপরকে জানার চেষ্টা চলতো। সুচ আর চ্যাটিং মাঝে মাঝে জরুরি কোন প্রয়োজনে সে দেখা করত। অনেক সময় আমি তাকে বানিয়ে বানিয়ে কিছু আবেগী কথা AI দিয়ে লিখে পাঠিয়ে দিতাম একদিন সে রেগে গিয়ে বকা দিতেই আমি এসব বাদ দিয়ে লেখা লেখি শুরু করি। ছোট বেলায় থেকে আমার বিরহ কষ্ট ভালো লাগতো কারন বিরহ কষ্ট ছাড়া লেখা জমতো না। এজন্য অন্য একটা আইডি খুলে সেখান লিখতাম। সেখানে কোন ফ্রেন্ড ছিল না। হঠাৎ একদিন তাকে আবার বেহায়ার মত ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে দিই। দুই দিন পর দেখি সে একসেপ্ট করেছে। আবার হাই হ্যালো চ্যাটিং হতো আজাইরা কথা বার্তা চলতে থাকে। একদিন সে একটা ফেসবুক পেজ খুলে দিতে বলে। আমি ছবি ডাউনলোড দিয়ে লিখে খুলে দিই ইউটিউব চ্যানেল খুলে দিই। এমনি ভাবে নানান রকমের কাজের পাশে তাকে জিজ্ঞেস করি আমরা কি করছি। আমি অনেক সময় তাকে আবেগের কথা সাজিয়ে বলি কিন্তু সে বলছে" তাঁর আবেগ কাজ করে না" তাকে একজন ঠকিয়েছে তার আবেগ তখন থেকেই মরে গেছে। তবু আমি AI এর সহযোগীতায় তাকে ঘায়েল করতে বুঝাতে চেষ্টা করি তার প্রতি আমার দূর্বলতা তৈরি হয়েছে। যদিও এসব ছিল শয়তানি নাটক আর অসুস্থ মস্তিষ্কের কাজ।
সে আমার দুর্বলতা কে তার ছোট খাট প্রয়োজন মিটানোর জন্য ব্যবহার করতো কোন কিছু খেতে বা কিনতে আমাকে ব্যবহার করতো। আমি বুঝেও জেনে শুনে এসব করে যেতে থাকি। কিন্তু আজ আবধি সে কখনো আমাকে একটু ভালোবাসার কথা বলেনি । আমি যত আবেগের গল্প বলি তার রুপের প্রসংসা করি সে শুধু বলে" তাই "। যদি ভালো মন্দ কোন ইচ্ছা প্রকাশ করতাম সে বলতো "আহারে"।
শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এতটুকুই গল্প কাহিনী তার আমার সাথে। হয়তো কোন কিছু বাদ পড়তে পারে কিন্তু তা কোন ভিন্ন ধরনের কিছু নয় নিত্যদিনের মতো কোনো কিছু। চায়ের নেশার মত তার সাথে একটু দেখা করা আমার নেশা হয়ে গিয়েছিলো। যদিও আজ আবধি কোন দৈহিক পাপাচার এ আমি নিজেকে জড়ায়নি । বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠলেও এটা একটা অবৈধ পাপাচার পর্যন্ত নিয়ে যেতে চাচ্ছিল বোধহয় আমাকে।
বলে রাখা ভালো ইতিমধ্যে আমি তাঁর সম্পর্কে যা যেনে গিয়েছিলাম, তা জানলে বন্ধুত্ব তো দুরের কথা কোন সভ্য ছেলে তার সাথে নিজেকে ব্যস্ত রাখার কথা চিন্তা করতো না।
সে সম্পূর্ণ ভাবে ড্রাক এডিক্টেড বিড়ি, সিগারেট, গাঁজা মদ ফেন্সিডিল সব সে খায়। এমনকি স্যোশাল মিডিয়ার নিসিদ্ধ প্লাটফর্ম ব্যবহার করে, অবৈধ সম্পর্ক করে দেহ ব্যবসার গোপন লাইন ও তার আছে। কিন্তু আমার কাছে সে ভালো সাজার নাটক করতো তাকে সবাই ঠকিয়েছে তার অনেক কষ্ট। এসব বলে আমার সিমপ্যাথি নিতে চাইতো আমি আরেক শয়তান যে সব জেনে শুনে তাকে হেল্প করতাম ভালো মানুষের মতো। পতিতার ভালো করার চিন্তা করে শালা আমি আজ নিজেই পতিতার কালি মেখে নিয়েছি। কিন্তু বুঝতে পারছিলাম না ভালো কাজ করার জন্য আগে নিজেকে ভালো রাখা দরকার।
কিন্তু এমনি একটি দিনের চ্যাটিং চলে যায় আমার সত্যিকারের ভালোবাসার মানুষটির হাতে। মূহুর্তে বদলে যায় জীবনের মানে। ঘনকালো অমানিশা ঘিরে ফেলে আমার জীবনের প্রতিটি অনু পরমানু। যাকে আমি তিল তিল করে ভালোবেসে আমার জীবন সংসার সাজিয়ে তুলেছিলাম ঠুনকো কাচের মতো তা একটি চ্যাটিং শব্দ গুচ্ছের ছোঁয়ায় ভেঙে যাবে আমি কল্পনাও করিনি।
যে আমার বাঁচা মরার একমাত্র হাতিয়ার আজ তার বিশ্বাস ভেঙ্গে দিয়ে আমি আমার অস্তিত্ব কে হারিয়ে ফেলেছি। একটা অন্ধকার কে আলো দেখাতে গিয়ে ,নিজেকে অন্ধকারে নিমজ্জিত করে ফেলেছি। পাপি কে পথ দেখাতে গিয়ে আজ আমি নিজেই পাপী হয়ে গেছি।
অভুক্ত কে খাবার দিতে গিয়ে আজ আমি অপরাধী।
মানুষ কে মানবতা দেখাতে গিয়ে নিজেই আজ মানবতাবিরোধী।
যে সপ্ন মানুষ কে বাঁচতে শেখায়,তা আমি নিজেই মেরে ফেলেছি।
যে আশা মানুষ কে সামনে নিয়ে যায়, তা আমি জলাঞ্জলি দিয়ে দিয়েছি। সারাটি জীবন অন্যের সুখে নিজেকে বিলিয়ে দিতে গিয়ে আজ আমি সবচেয়ে আপন মানুষটার চোখের জ্বলের কারণ হয়ে গেছি।
তার চোখের জ্বলের অভিশাপ আমাকে বারবার মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। জানিনা কতক্ষন নিজেকে সামলাতে পারবো আমি জানি না, আদোও পারবো কিনা নাকি ক্ষমাশীল একটি পাপের শাস্তি ক্ষমাহীন একটি মহাপাপ দিয়ে এ জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটবে।
আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমি নিজেকে শেষ করে দিব।
এভাবে আমি বেঁচে ও থাকতে পারবোনা। আমি তার চোখের জ্বলের অভিশাপ দিয়ে জীবন যাপন করতে পারবোনা। তার আদর ভালোবাসা ছাড়া এমনিতেই আমি মরে যাব। আমি বেঁচে থাকলেও সে কাঁদবে মরে গেলেও কাঁদবে। কিন্তু বেঁচে থাকলে আমার প্রতি তার ঘৃনা আরও বেড়ে যাবে। মরে গেলে একদিন সে আমাকে ভুলে যাবে। আমার স্পর্শ আজ সে ঘৃনা অনুভব করে আমার চেহারা তাকে বেদনা এনে দেয় । আমি এখন তার চোখে শুধু ঘৃণীত, পাপী, শয়তান, বদমাশ,চোর , অকৃতজ্ঞ , হৃদয়হীন কোন ব্যক্তি। আমার এতদিনের কোন ত্যাগ কোন পূণ্য কোন ভালোবাসার প্রতিদানে আমি আর তাকে পাবো না। আমার সব সাধনা সব শ্রম এই একটি পাপের দহনে নিঃশেষ হয়ে গেছে।
আজ আমার পাপের বিবরণ সে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুলে ধরেছে।
আমার ভালবাসার এতটুকু মূল্যায়ন সে করলো না। আমি কি তাহলে এতটি বছর দীর্ঘ সময় ধরে তার সাথে ভালোবাসার অভিনয় করেছি। অভিনয় কি কেউ এতো সময় এতো নিখুঁত ভাবে কেউ করতে পারে আমি জানি না। আমার অপরাধের বর্ণনা আমি সব সত্যিটা তুলে ধরেছি যার সময় কাল ছিল মাত্র দুই মাস। যেখানে কোন দৌহিক লেনাদেনার অংশ ছিল না। কারণ জীবন মৃত্যুর এ সন্ধিক্ষণে মিথ্যা বলার কোন ইচ্ছা আমার নেই। যা বলেছি সব সত্য কথা। তাকে ভালোবেসে বিয়ে করার পর তার এক কাছের মানুষ তার সম্পর্কে কত নোংরা কথা বলেছে আমি কখনও তা ভাবনায় আনিনি ।সে যাইহোক নিজের পাপের জন্য অন্যের দোষ খুঁজতে চাই না শুধু এইটুকু জানতে ইচ্ছে করেছিল ক্ষমার কি কোন উপায় ছিল না। বেঁচে থাকার কি কোন উপায় ছিল না।
আজ এই দিনে আমার আপনজনদের ভীষণ মনে পড়ছে। যতটুকু অপরাধ করে আজ আমি পাপী আমি জানি এর চেয়ে বেশি অপরাধ করলেও তারা আমাকে ক্ষমা করে দিতো সান্ত্বনা দিতো আমাকে মরতে দিতো না। আজ আমার প্রতিটি ভাই বোনের বাবা মায়ের মুখের ছবি ভেসে উঠছে। আমার ভীষণ কাঁদতে ইচ্ছে করছে তাদের কাছে । বলতে ইচ্ছে করছে আমি ভুল করেছি আমাকে ক্ষমা করে দিও। আমি যাকে ঠকিয়েছে সে বলেছে আমাকে জীবনেও ক্ষমা করবে না । জানিনা কতটা পাপ আমি করেছি। হয়তো তাঁর চোখে সেটা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। কিন্তু আমার মনে হয়েছিল আমার অনুতপ্ত আত্মা তার ক্ষমা পাবে কিন্তু না সে তা করেনি। কেন বা করবে সে কষ্ট পেয়েছে তার কষ্টের প্রতিশোধ নেয়া উচিৎ তাঁর বিশ্বাস ভঙ্গকারীর শাস্তি হওয়া উচিত।
0 Comments